Home / শীর্ষ সংবাদ / প্রসঙ্গঃ আওয়ামীলীগের সম্মেলন

প্রসঙ্গঃ আওয়ামীলীগের সম্মেলন

আতাউল হাকিম আরিফ

প্রায় ৭ বছর পর সীতাকুণ্ড উপজেলা বাংলাদেশ সম্মেলনের তারিখ ঘোষিত হয়েছে।এমন ঘোষণায় সীতাকুণ্ডের সর্বত্র দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধ্যাত্ব কেটে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে এমনটি সকলের প্রত্যাশা। উপজেলা কমিটির পাশাপাশি পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়েও দলীয় সম্মেলনের তোড়জোড় চলছে, এতে করে একেবারেই তৃণমূল পর্যায়েও নেতৃত্বের পট পরিবর্তন,নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সভানেত্রী,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী যখন দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে , মাদক,সন্ত্রাস,দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন ঠিক সে মুহুর্তে দলীয় সম্মেলন ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন যাবত সুবিধাভোগী হাইব্রিড শ্রেণীর দৌরাত্ম্য দলের এক সময়কার ত্যাগী, নির্যাতিত নেতা কর্মীরা অনেকেই হতাশায় নিমজ্জিত ছিলেন, তাঁদের অনেকই আবার নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন। তথাপি এখনো সর্বত্র সুবিধাভোগী, হাইব্রিড, দলছুট ( মুখে আওয়ামীলীগ অন্তরে জামায়াত বিএনপির এজেন্ট) অনেকেই নেতৃত্ব /পুনঃ নেতৃত্ব পাওয়ার পাওয়ার আশায় সর্বত্র প্রচারণা/গাত্রদাহ শুরু করেছেন।পাশাপাশি অযোগ্য, অমার্জিত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন অনেকেই নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় তোড়জোড় শুরু করেছেন। ৯০’র দশক থেকে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি /রাজনীতি করার সুবাদে রাজনীতির মাঠে অনেকেরই উত্থান পতন দেখেছি, তেমনি দেখেছি সুবিধাভোগীদের দৌরাত্ম্য। অনেক ত্যাগী- নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের দেখেছি রাজনীতির মাঠে একেবারেই শূন্য হাতে ফিরতে তদ্রুপ ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে হঠাৎ গজিয়ে উঠা তৈল বর্ধনকারী অনেকেই নেতৃত্ব হাতিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে সর্বত্র সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে। আজ সময় এসেছে নেত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী পারিবারিক ইতোবৃত্ত, ত্যাগ-তিতিক্ষা, মেধা-মননশীলতা যাচাই বাচাই করে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর।

সীতাকুণ্ডের বর্তমান সংসদ সদস্য দুই দফা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন,ইতোমধ্যে তার নিশ্চয়ই অভিজ্ঞতা হয়েছে কারা প্রকৃত ত্যাগী, কারা সুবিধাভোগী। উপজেলা চেয়ারম্যানও দুই দফা দায়িত্ব পালন করছেন তাছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এবিএম আবুল কাশেম মাষ্টারের সন্তান হিসাবে শৈশব থেকেই দেখে আসছেন কারা পার্টির জন্য সর্বোচ্চ নিবেদিত ছিল।আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া তো রাজনীতির শেকড় সন্ধানী, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে দলের প্রতিটি মানুষই তার চেনাজানা,তিনি খুব ভালো করেই জানেন তৃণমূলে কার কি অবদান ছিল-তাই আশা করবো পীর-মুরিদের সম্পর্কের হিসাব না করে জননেত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি করণের বিষয়টি মাথায় রেখে ইতিবাচক নেতৃত্ব সৃষ্টিতে খুবই সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এইক্ষেত্রে সাবেক পরীক্ষিত ছাত্র নেতাদের যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: