Home / সহস্রধারা / কবিতা / কবি আতাউল হাকিম আরিফের সম্প্রতি লিখা ১০টি কবিতা

কবি আতাউল হাকিম আরিফের সম্প্রতি লিখা ১০টি কবিতা

বিশাল মঞ্চ

পাড়াগাঁয়ের বাদামী রঙ মেখে মেখে,
অনেকটা গোত্তা খেতে খেতেই জীবনের বাঁকবদল!
রোমাঞ্চকর অনেকগুলো স্মৃতি তাড়িয়ে
গোপন দরোজায় কড়া নাড়তেও শিখে গিয়েছিলাম!
হঠাৎ-ই একদিন-
নর্তকীর খোলা বুকের ঝংকারে কেঁপে উঠতে গিয়ে
প্রচণ্ডভাবে বুঝে গিয়েছিলাম প্রলেতারিয়েত!
এবং জানলাম
শ্রেণি সংগ্রাম!
পদ্মা,মেঘনা,যমুনার কূল ডিঙ্গিয়ে
কিউবা,
ভিয়েতনাম,
প্যালেস্টাইন
আফ্রিকা
কিংবা
ল্যাতিন আমেরিকার
গহীন অরণ্যেও দেখেছি
মুষ্টিবদ্ধ দুই হাত!

মাও,
চে,
কাস্ত্রো,
হো চো ,
ম্যান্দেলা,
শেখ মুজিব
হয়ে উঠেছিল জীবনের অনুসঙ্গ!

অবশেষে
দীর্ঘ সংগ্রামের পথ হেঁটে হেঁটে…
দেখছি-
তেঁতে উঠেছে হাইব্রিড প্রজন্ম
সেখানে-
শ্যামাঙ্গীনির ঠোঁট
রক্ষিতার বুক
গোপন সন্ধুক
এবং
বিশাল মঞ্চ!

দ্বৈরথে জন্মনেয় লাঠিয়াল

গৃঢ়স্বপ্ন গুলো মরতে মরতে লাফিয়ে উঠে
পুনরায় মরে যায় কিংবা মেরে ফেলা হয়,
মরালে হলুদ সর্ষের মাখামাখি!

তৈলবৎ শরীরগুলো আগাছায় ছেয়ে গেছে
যেমনটি রাজতন্ত্রের খসড়ায় নির্বাসিত আইন-কানুন!

কন্টকিত হয়ে উঠে চেনা জনপদ,
দাসত্বের শৃঙ্খলে বন্দী স্বপ্নলোক,
দ্বৈরথে জন্মনেয় লাঠিয়াল।

অন্য একটি চোখ

একটি চোখ-দেখছে
একটি সংগ্রামের ইতিহাস
যেখানে জয়ধ্বনি,
স্বপ্ন!
এবং
নীলবর্ণে উচ্চকিত স্বাদেশিকতা!

কিন্তু
বিস্ময়করভাবে জেগে উঠছে
অন্য একটি চোখ!
যে চোখে
মিছিলের ভাষা নেই!
অথচ চোখটিতে দৃশ্যমান
রক্তাক্ত মজদুরের শার্ট।

গভীর বিষন্নতা

আমার শহরে নেমে এসেছে প্রকাণ্ড অন্ধকার
এখানে এখন ভর করছে উৎসব ভাঙার গোপন উল্লাস!
দিনকানা জন্তুর পদভারে মুখরিত এই শহরে
হলুদ সিংহাসনের মোহ গ্রস্ততায় অস্থির বাতাস বইছে
অতপর; বিকট শব্দে হুইসেল বেজে উঠে,
জনতার দিকভ্রান্ত দৌড়!
বুটের শব্দে নেমে আসে আরো গভীর বিষন্নতা।

মহাপুরুষের তর্জনী

অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্ম কবচ নিয়েও
ওদের নখরের চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছে পবিত্র সত্তা!

আজ আমি শেয়ালের রূপ পরখ করে দেখছি
আমার চারপাশে ঠিক কতজন শেয়াল আছে
শেয়ালের প্রশ্রাবের মতোই ওদের গায়ের গন্ধটাও!

পরক্ষণে দেখছি-
প্রমত্ত পদ্মায় আবারও জেগে উঠছে তরঙ্গ
দিগন্তে দাঁড়িয়ে আছে রক্তিম সূর্য!
আমি বৃক্ষের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে শত সহস্র স্তব্ধতায় অনুরণিত হই।

আজ যদি শব্দের মৃত্যু নাহয় আবারও
সাড়ম্বরে জেগে উঠবে মহাপুরুষের তর্জনী।

তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয়

মৃত্তিকা , এই অন্তরীক্ষে তুমুল পরিবর্তন হয়ে গেছে
এখানে এখন ক্রুদ্ধ অরণ্য, করবী ফুটেনি বহুকাল!
তালতলা এখন নেশাগ্রস্ত মাতালদের ঠিকানা
শীতলঝর্ণায় বয়ে যাচ্ছে বেশ্যাপাড়ার কোলাহল
মনে কী পড়ে-
একবার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিলে উত্তাপ ছুঁয়ে দেখবে বলে
সেদিন তোমার ঠান্ডা বুকে জেগে উঠেছিলো খসখসে হাত,
জানিনা, তোমার উপচে উঠা বুকে এখনো তরঙ্গ আছে কিনা!
তবুও যে একটিবার তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয়।

কবির চোখ অস্পষ্ট

এখানে এখন কবির চোখ অস্পষ্ট
এখনে এখন থমকে গেছে তারুণ্য,
রূপালী আলোর আভা!

এখানে এখন জন্ম-মৃত্যুর ছায়াপথে হাঁটছে-
কতিপয় সংশয়বাদীগণ,
অলক্ষণে টোকা দিতে থাকে
টেলিপ্রিন্টারের শব্দ!
রক্তিম সূর্যটা হয়ে উঠে বিবর্ণ হলুদ!

বিভাজন

শ্রেণী বিভাজনের দগ্ধ পুঁজে আক্রান্ত আমার শহর
এখানে প্রতিনিয়ত বলাৎকার হয় সৃজনীর রূপ যৌবন!
কোনো কোনো দিন শুনতে পাই প্রজাপতির কান্না,
টেবিলে কিংবা বিছানায় টুপটাপ ঝরে পড়ে শব্দ!
ক্রমশ ধূসর হতে থাকে দেয়ালে ঝুলানো বিপ্লবী চে ‘র ছবিখানা।

পাশুটে হাওয়ায়

যৌবনের দাগ কেটে গেলেও
জল গোলা চোখ দেখছে-ঘোর অন্ধকার,
বিবর্তনে উষ্ণতা নেই
কেবলি মৃত্যুছায়া চিৎ হয়ে শুয়ে আছে!

বৃক্ষ ও পাখিদের চোখে-পুঁজির বিজ্ঞাপন!
আকাশ, নদী ও পাহাড়
ভীষণ,ভীষণ কালোরূপ ধারণ করেছে।

প্রিয়তার বুকে নেই স্তনাগ্র উম্মাদনা,
দীর্ঘমেয়াদে বৃষ্টিহীন!
পাশুটে হাওয়ায় উড়ে যায়-
সুতীব্র ইচ্ছেগুলো।

পরাজয়

বাতাসের চঞ্চলতা গায়ে মেখে হাঁটছি
বলা যেতে পারে-
মানবিক বিষাদ থেকে ক্ষণিকের মুক্তি,
হয়তোবা নিজের অজান্তেই ফিরে আসে কৈশোরের দূরন্ত সময়,চনমনে রোদ্দুরে লম্পঝম্প!
আমি তখন বাতাসের কাছে অনর্গল নালিশ জানাতে থাকি-
যে মানুষগুলো আমাকে কখনোই ভালবাসেনি
অথচ কাঙাল ছিলাম!
যাদের আদ্র-বৃষ্টিজলে ভিজতে চেয়েছিলাম, ভেজা হয়নি!
জলের মগ্নতা থেকে কিংবা গোলাপের কাঁটা বিঁধে,
আন্তশূণ্য হৃদয়ে-আমি পরাজয় মেনে নিয়েছি।

আমি কোনো যোদ্ধা কিংবা প্রেমিক নই,
রমনীর ঠাসা যৌবন কখনো ছুঁয়েও দেখনি!
শুধুই এইটুকুই বলতে পারি বহুদূর,
অনেকটা পথ বিভূঁইয়ে,পুনরায় ফিরে এসে বুঝলাম-
আমিও জীবনযুদ্ধে পরাজিত সৈনিক!

About msmh msmh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: