Home / সহস্রধারা / কবিতা / কবি আতাউল হাকিম আরিফের সাম্প্রতিক লেখা ১০টি কবিতা

কবি আতাউল হাকিম আরিফের সাম্প্রতিক লেখা ১০টি কবিতা

কৃষ্ণবিবর!

মানচিত্রের যোনীপথ ভেদ করে বিষ ঢুকে যাচ্ছে
বিষ নির্গত রক্ত মিশে যায় পতাকার চৌকোনায়!
মা, বোন, প্রিয়তমা এবং আমার সন্তানেরা ডুকরে কেঁদে উঠে
বিষাদসিন্ধুর অতলে ডুবে গিয়ে ক্রমশ; হারিয়ে যায় কৃষ্ণবিবরে!

মৃত্তিকার ঠোঁট, ক্ষুধা এবং মৃত্যু

ভেজা দুপুর, বিষন্নতায় ডুবি গেছি
দেশলাইটা হাতে নিয়েও
একযুগ আগে বর্জন করা সিগেরেটের
নেশাটাকে পুনরায় জাগাতে দেইনি!

অর্ধসত্য আমার চোখ-
তরবারী রাঙা রঙ দেখে কেঁপে উঠি
কিছুটা পথ মৃত্যুর দিকে হেঁটে গিয়ে-
পুনরায় ফিরে এসে দেখি আকাশ স্তব্ধ!
আধেক স্তব্ধতা বুকে-মনে বাদামি অসুখ!

আত্বহননের পীঠে-বারংবার ভেসে উঠে
সিলভিয়া প্লাথের চোখ এবং শব্দগাঁথা!

মৃত্তিকার ঠোঁট, ক্ষুধা এবং মৃত্যু
সবটায় যেনো সমার্থক,
সবুজ বেষ্টনী জুড়ে বিরাজ করছে অদ্ভুত শোকের আবহ!

ছায়া

এই পথ,জলাভূমি কিংবা গিরিগাদে
অথবা খুব অন্ধকারে-মৃত চাঁদ, মৃত ঘাসফরিং,
নোংরা ডেক-কুৎসিত মানুষ!

এখনো অনর্গল জনস্রোত,
হয়তোবা এটিও এক প্রকার জনযুদ্ধের পূর্বক্ষণ!
দৃশ্যত; প্রতিবিম্ব-
মেন্দেলা,ক্যাস্ত্রো,গিয়াপ চে, হো চো মিন
কিংবা মুজিবের।

এবং
কতিপয় মহামারীর বিলুপ্তকালে
আমরা মেতে উঠি উৎসবে!
আমাদের পেছনে পেছনে দৌড়াতে থাকে একদল কালোবিড়াল!

অস্পষ্ট জনতার চোখ!

পাখির ডানা থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটার
মতো
ক্ষীণ শব্দে জেগে উঠে বিবর্ণ দিনগুলো,
চীনের প্রাচীরের মতোই ঠেসে আছে বিশাল অক্ষমতা,
ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছে-এই জনপদ!
দর্শনার্থী অনেক, ঈর্ষা আছে অথচ তেজ নেই!
অর্বাচীন আবেগে বাতাসে ভেসে উঠে-রঙিন বেলুন।

সর্বভুক সাধু!
অস্পষ্ট জনতার চোখ!

কোমল স্পর্শে

সুপ্রাচীন বৃক্ষরাজীর মত তোমার গ্রীবা,
বুকের ঝোপঝাড়ে রহস্যময় ধ্বণি!
উদ্বাস্তু জীবনে-এই যেনো নক্ষত্রের আলো।

মাঝেমধ্যে ঢাল ভেঙে যায়
যেমনটি নদী ভাঙে উজানে!

তখন-তুমি হয়ে উঠো শ্রাবণের বেনোজল
কোমল স্পর্শে-পুনরায় জেগে উঠি আমি।

বুকের ভেতরে

অনেকগুলো বছর তো কেটে গেলো-
সেই লালরঙা ইষ্টিশন,
রৌদ্দুরে শটিবন পেরিয়ে দূরবর্তী পথ,
কখনোবা মেঘনার কূলে-
বিস্তৃত জলরাশি,
উন্মুক্ত আকাশ ছোঁয়া!

মৃত্তিকা,
সেদিনটাতে তোর বুকের ভেতর
ছিলো রোদ জমা উত্তাপ,
কখনোবা মাটিভেজা বৃষ্টি,
তোর-রূপোর শরীরে বেঁধেছিলাম খঞ্জনী
তবুও তুই চলে গেলি কোন সূদুরে!

এখনো আমি নদীর কাছে-
তোর স্বর শুনতে যাই
অন্ধকারে খুঁজি তোর ছায়া!

এইতো সেদিন-
ঘাতকের ছুরিতে রক্ত বিনিময়ে
তোকে ভুলতে চেয়েছিলাম,পারিনি
কেননা-তোর চোখ দুটো জেগে আছে-বুকের ভেতরে!

সংশয়

আশ্চর্য সাদা রং
বিচ্ছুরিত পবিত্র আলোর রেখা
বিশুদ্ধ শব্দদের আনাগোনা
সুগন্ধি মাখা-
মহাকাব্যের নায়ক নিরবে সচল!

অন্যত্র কুমারী শরীরে সঞ্চারিত
একখানা পাণ্ডুলিপি খুন হয়েছে
অসিহিষ্ণু চোখে তাকিয়ে দেখছে- ধূসরতা,
জংধারা ইটকাঠ এবং
জীবনের অন্তহীন সংশয়।

বাণিজ্য

আজও মঞ্চে বেশ হুড়োহুড়ি,
নাদুসনুদুস চেহারা সদৃশ নতুনের আগমন,
ঈষৎ বাঁকা চোখে তাকিয়ে কিছু একটা
ভাবছেন মাননীয় সভাপতি!

ক্ষণে ক্ষণে ময়দানে উত্তেজনা, হট্টগোল
নর্দমায় স্তুপে-পবিত্র ইশতেহার!
ক্রমশ; রাত বাড়ছে ,নিয়ন আলোয়-
সংস্কৃতির পথ আটকে যায় বাণিজ্যের অতলে!

অন্তর্গত চেতনা

প্রারম্ভিক অভিজ্ঞতা পরাধীনতা এবং বিদ্রোহ
অতপর; বিপ্লব!
শুরুটা হয়তোবা একেবারেই ভিন্ন-
ডাকাত ধরার স্পৃহা কিংবা গভীর বনে হনুমান তাড়ানোর মত-ই কিছু একটা,
হতে পারে সহস্র বিপ্লবের কিছু দীক্ষা, সাঁওতাল বিদ্রোহ , তেভাগা, জালালাবাদ বিদ্রোহ
কিংবা বৃটিশ অশ্রাগার লুণ্ঠনের স্মৃতি!

কালক্রমে জেগে উঠতে পারে-
মাক্স- মাওবাদী দর্শন, কমিউনিষ্ট ইশতেহার,
হো চো মিন,লেলিন, কাস্ট্রো, চে গুয়েভারা
এবং একজন শেখ মুজিব।

দ্বন্দ্বের চুড়ান্ত সংঘাতে…
ইতিহাস হেঁটে যেতে পারে অনেকদূর,
চূড়ান্ত সফলতা কিংবা ব্যার্থতায়
কেউকেউ হয়ে উঠেন ইতিহাসের নায়ক কেউবা খলনায়ক
কিংবা পালাবদলে
কেউকেউ হতে পারেন একান্তই অন্তর্গত চেতনার উৎস।

প্রিয় নেত্রী

প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা
তোমার পরশে-
জেগে উঠে বাংলার জমিন,
ফুল্লকুসুমিত-কৃষাণ-কৃষাণীর মুখ,
প্রদীপ্ত পদভারে-
মুখরিত শ্রমজীবী মানুষ।।

তুমি আছো বলেই
স্বপ্ন দেখি বেঁচে থাকার
এবং
তোমার স্বপ্ন ছুঁয়ে-
দুর্বার এগিয়ে যায় প্রিয় বাংলাদেশ।

About msmh msmh

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: