Home / সহস্রধারা / কবিতা / কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ কবিতা || সহস্রধারা

কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ কবিতা || সহস্রধারা

ঠোঁট গাঁথা শিহরণ নেই

কচুপাতার রঙমাখা শাড়ীতে প্রথম যেদিন তোমাকে দেখেছিলাম
সেদিন-বৃষ্টিমাখা বিকেলের রূপটায় যেনো পাল্টে গিয়েছিলো!
নিঃসন্দেহে আমি অনেকটায় উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম,
শব্দরাজির মালাও গেঁথে ছিলাম একখানা।

বেশ মনে পড়ে-
ঘোরলাগা বর্ষনে তুমি এসেছিলে স্নিগ্ধ প্রতিমা হয়ে,
তুমি এবং দেবদারুগুলো আমাকে ডেকেছিলে-
দু-হাতে ছিলো প্রেম!
সুপ্রাচীন অবয়ব ঘেঁষে দুই-দুই চার চোখের দেয়ালে ঠেসে দাঁড়িয়ে ছিলাম অনেকটা সময়!

মৃত্তিকা,
২০টি বর্ষা ঋতু পেরিয়ে গেলো-
কালধারায় হিংসুটে পালাবদল,
আমরাও কী পাল্টে গেছি?

কুয়াশা-মাখানো ধানের শীষে আলতো ছোঁয়া নেই
সুনিবিড় বিকালে লেগেছে ধূসরতা,
চাঁদনী রাতে জেগে উঠেনা পঙ্কজ-জগজিৎ।

এখন আর বৃষ্টিতে শরীর মাখিনা!
ঠোঁট গাঁথা শিহরণ নেই,
তোমার চোখের নীলিমায় আকাশটাও দেখা হয়না অনেকদিন।

চাই উষ্ণতা

জলঢোঁড়া ‘র মত বড্ড খ্যচমচ তোর স্বভাব
বুক তোর কাঁদামাটি!

চন্দ্রবোড়াও তো হতে পারিস,
বিষে বিষ ঢালতাম!

সঙ্গোপনে-
লুকায়িত স্বপ্নের ডানা ভেঙ্গে ফেলেছিস!

বলছিলাম-
তীষ্ণার্ত গভীরতায়-
ছন্দময়ী জালে বেঁধে রাখতেও তো পারিস!

মায়াবতী মেঘের আড়ালে-
আমারও যে চাই উষ্ণতা।

প্রতিচ্ছায়

আশ্চর্য এক রৌদ্রোজ্জ্বল বিকালে স্নাত হলাম,
মেঘেদের রাজ্যে ঘুরেঘুরে দেখলাম এক অপূর্ব আকাশ। পগাঢ় নীলিমায়-সমুজ্জ্বল স্বপ্নেরা হেসেখেলে ঘুরে বেড়ায়!

সুরভিত বাতাসে অদ্ভুত সুন্দর আলপনা!দিগন্তনীলে ছুটে বেড়ায় স্নিগ্ধ নগ্নবুক! ক্রমাগত ছুটে আসে অনাদান্ত অতীত-হাডুডু,লাটিম,ঘুড়ি,
মার্বেল,ডাংগুলি এবং কৈশোরকালীন প্রেমিকার প্রতিচ্ছায়া!

পরাজয়

অগ্নিমশাল জ্বালিয়ে যদি ছারখার করে দিতে পারতাম
কাল নাগিনীর বিষাক্ত ফনা,
ক্রুদ্ধ দংশন
অস্থির প্রবাহকাল,
অন্তর্গত জীবনের ব্যার্থতা,
উদ্বাস্তু ভবিতব্য!

কিংবা যদি পেতাম
নবান্নের পিঠাপুলি আস্বাদনের মতোই
অবিরাম ভালোলাগা
নতুন পত্রালী-
টিনএজ প্রেমগাঁথা!
মৃত্তিকার কোমল স্পর্শ
দুঃখহরণের উদ্দাম হাওয়া,
এবং
স্বপ্নশয্যা!

অথচ স্বপ্নের পুরোভাগে জমে গেছে কালো আস্তর
শুকুরের মাথা গজিয়েছে অহরহ!
গণ পঞ্চায়েতে গণ মানুষ কুপোকাত!

শত-সহস্র পদচিহ্নে
আজ আমিও রেখে গেলাম একটি শব্দ-পরাজয়!

আর্তনাদ

বিষ পিঁপড়ের সারিবদ্ধ যাত্রায় চেনা জনপদ ক্রমেই মুড়িয়ে যাচ্ছে
খুব কাছেই শুনতে পাই আর্তজনের সকরুন আর্তনাদ
কংকালের ছায়াশরীর এগিয়ে যেতেই
খসে পড়ে
বিমূর্ত কার্নিভ্যাল, নক্ষত্রের আলো।

অশ্বত্থের ছায়ায় বসে কিছুটা সময়-
দেখতে থাকি অচেনা পৃথিবীর রূপ!
হয়তোবা কোনো কালেই এখানে ছিলনা
কৃষাণীর হাসি, রাখালের বাঁশি!

নদীর জলেও অদ্ভুত রকম স্তব্ধতা,
গুমরে কেঁদে উঠে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী!
শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায় প্রেমিকার স্তন!

মিহিন বাতাস

আজকের দিনটা ছিলো বেশ শুকনো এবং ঝলমলে
সশব্দে জেগে উঠি-অদূরে মৃত্তিকার বুক, অন্তরীক্ষে যৌবন!
চুরির মতো ধারালো রূপ,
জন্মকাল অব্দি বেড়ে উঠা শরীরে জেগে উঠে অদ্ভুত শিহরণ
সোনানী স্তনের কাছে নতজানু আঙুল,
হঠাৎ ভেঙে যায় স্তব্ধতা, ঠোঁট ও মুখে ছোবল!
দুই বক্ষদেশ ছিঁড়ে
বেরিয়ে আসে মিহিন বাতাস-গভীর ঘন নিঃশ্বাস।

করোনাকালের ডায়েরি

ড্রেসডেন অথবা চিরচেনা বরিশাল কলোনী সবটায় এক ঝটকায় পেছনে ফেলে আমি হেঁটে যায় অচৈতন্য কালের ছায়ায় কিংবা হতে পারে জন্মকালের কিছুদিন পর মাইটভাঙ্গা গ্রামে।যেখানে বেতবন, ডাহুকের ডাক, বেনেবউ ‘র মিষ্টি সুর, প্রকৃতির লীলাকানন!

হয়তোবা আমি একটি বৃক্ষ কিংবা একটি পাখি হয়ে গেছি। প্রতিদিন মেঘবালিকার মতো করে আকাশটাকে দেখছি। উদ্ভ্রান্ত বাতাসে ছায়ার মতো লেপ্টে থাকা শরীরে কখনো রোদ, কখনো জোৎস্নার মায়াবী যৌবন সাঁতরে বেড়ায়।

মেঘনা’ র কথাও যে বলতে হয়, ভীষণ উত্তেজক!পাড়ঘেঁষে বসে থাকি, তালগাছ-বাবুইনামা,
মাদুলি বাজিয়ে আসে বাইদানী এবং শব্দক্রীড়ায় মেতে উঠা কিছু সময়।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: