Home / সহস্রধারা / শুভ্রা দাশ’র তিনটি কবিতা || সহস্রধারা

শুভ্রা দাশ’র তিনটি কবিতা || সহস্রধারা

বাড়ি

চার দেওয়ালের একটি ঘর,
যেথায় আনন্দে কাটে প্রতি প্রহর।
নির্মলতার পরশ সেথায় প্রতি কোণে,
মুগ্ধ শান্তির আশ্বাস আছে ক্ষণে ক্ষণে।

আঙ্গিনা শৈশবের প্রতিটা ছবি আঁকে,
মায়ের স্নেহ,বাবার আদর লুকানো বাঁকে বাঁকে।
আর বাগানের সেই অপরূপ দৃশ্য,
হ্যাঁ বাড়িতে থাকলেই বুঝি এই মনোরম বিশ্ব।

বাড়ি যেন ভালোবাসার অদ্ভুত মায়া,
স্থানটি বদ্ধতা নয়,স্বাধীনতার স্নিগ্ধ ছায়া।
যখন বৃষ্টিতে ভেজার সামান্য বায়না ধরি,
তখনই মায়ের গর্জনে কেঁপে উঠে সারা বাড়ি।

বাড়ির আছে নানান স্মৃতি,
তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে খেলা।
ক্রিকেট, ফুটবল ও লুকোচুরির হইচই দেখে,
মনে হতো যেন বসেছে আজ মেলা।

বাড়ি খুবই দামী যত্নের জিনিস,
বর্ণনা করার বাকী আছে ভারী।
এতো কালি কলমে নেই বাপু,
তাই টানছি অসমাপ্ত দাড়ি।

আত্মহত্যা

আত্ম হননের পিছনে থাকে,
এক অব্যক্ত নিষ্ঠুর সত্য।
যে বেছে নেয় একমাত্র সেই জানে,
কতটা নির্মম ছিল তার বাস্তবতার গল্প।

জানি,আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়,
কিন্তু নিজেকে নিজে মেরে ফেলা ও তো সহজ নয়।
হ্যাঁ অনেক সময় জীবনে নিঃশ্বাস বন্ধ না হলেও,
আত্মার মৃত্যু শরীরের আগেই হয়।

তোমার কাছের মানুষের চেহারায় চিন্তার ছাপ,
একটু হলেও আড়ালে তার কারণ খোঁজ।
হয়তো সে অন্ধকারে গুমরে বসে আছে,
একবার হলেও তার নিস্তব্ধ কষ্টটা বোঝো।

কারোর আছে নির্ঘুম রাত,অপ্রিয় কিছু বাক্য,
যার কাছে হয়ে উঠে জীবনের মায়াটা ব্যর্থ।
এদের মধ্যে কিছু তোমার প্রিয় মানুষওপড়ে,
যাদের বুকে টেনে নেওয়াটাও তোমার দায়িত্ব।

শারীরিক সুস্থতা বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত নয়,
নিজেকে মানসিক ভাবেও ভালো রাখ।
ব্যক্তিগত স্বার্থপর দুনিয়া থেকে বের হয়ে,
চারপাশের মানুষগুলোকেও ভালোবাসো।

মানুষ

একজনের নিশ্চুপ থাকার বারণ,
হয়ে উঠে অন্যের বদলে যাওয়ার কারণ।
কারো জীবনে চলে সুখে থাকার আয়োজন,
যার আদলে অন্যের দুনিয়ায় মেঘ নামা প্রয়োজন।

না বলার মাঝে থাকে হাজার কথা,
সবাই তা বুঝার ক্ষমতা রাখে না।
না পাওয়া যে জিনিসের মূল্য অমূল্য হয়ে উঠে,
পাওয়ার পর তার আর মূল্য থাকে না।

মাঝে মাঝে ভাবতে অবাক লাগে,
এমনও বুঝি হয়।
সামনা সামনি মিষ্টি হলেও,
পিছনে কানাকানিতে মগ্ন হয়ে রয়।

চুপচাপ থাকাটাকে ভাবে দুর্বলতা,
অপমান করাকে বলে ব্যাক্তিত্ব।
মানুষের বিপদে মানুষ যায় লুকিয়ে,
এর নামই হলো মনুষ্যত্ব।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: