Home / সহস্রধারা / কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ কবিতা | সহস্রধারা

কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ কবিতা | সহস্রধারা

যৌবন

তমসাবৃত পৃথিবী, নক্ষত্রপুঞ্জ এবং আদিমতম শব্দাবলীও তোমার নগ্নতাকে রুখে দিতে পারেনি!

তোমার শরীরের ভাঁজে ভাঁজে উতলে উঠে কামজ উম্মাদনা,আফিমের লালফুলের মতোই-বিমুগ্ধ।

কেঁপে উঠে তৃষ্ণার্ত প্রেমিকের ঠোঁট,জেগে উঠে রাত,
চুমুক তরঙ্গ সঞ্চারিত।সাপের মতো প্যাঁচিয়ে-সাদাজলে
সিক্ত হওয়ায় কি তোমার সুখ!

এই শহরে এখন প্রতিদিন সান্ধ্য আইন,কোনো কোনো দিন রাতকানা এরোপ্লেন চক্কর দিয়ে যায়,অন্যত্র প্রকৃতিও ফিরে পেয়েছে আফ্রোদিতির মতোই ঠাসা যৌবন, তোমার মাঝে আমিও।

শিল্পহীন মনোভূমি

আজকাল শুভ্র বিকালে রোমাঞ্চ সন্ধানী পরিব্রাজকদের দেখা মিলেনা খুব একটা,
মাটির কাছে অভিমানে ঝরে পড়ে
কৃষ্ণচূড়া-সোনালুর রূপ।

জালানার পাশে মলিন দাঁড়িয়ে থাকে নীলবর্ণ আকাশটাও
ইন্দ্রিয়ের সর্বানুভূতি যেনো শোকার্ত নববধুর মতো চিৎকারহীন,
কিংবা শ্যাওলা পচা মজাপুকুরের মতোই নিরুত্তাপ!

পাপ,মনস্তাপ, মৃত্যুর মতো কতিপয় চিন্তা
দূরবর্তী ইস্টিশন থেকে পুনরায় ফিরে আসে,
জানালা-দর্জার নাড়ীভুঁড়ি ছিঁড়ে
বেরিয়ে আসতে চাই নিজ গৃহের সমস্ত ইটপাথর।

এই পৃথিবীর সবটাই যেনো আজ শিল্পহীন মনোভূমি!

প্রতিধ্বনি

মড়মড় শব্দে বেজে উঠে শতাব্দী কালের ধ্বনি
স্বপ্নগুলোর পলায়নপর মনোবৃত্তি,
আমাদের অন্তর্গত জীবনের সমস্ত মগ্নতা সরে গেছে!

সুন্দরীর স্পর্শ কিংবা অপ্রার্থিব কিছু কোলাহল
স্রোতশূন্য হয়ে তলিয়ে গেছে গূঢ় অন্ধকারের বুকে।

অদ্ভুত এক স্তব্ধতায়-পৃথিবীর রঙ আজ তামাটে ধূসর,
আমাদের পদচিহ্ন-
ক্ষুদা মিটানোর অক্ষমতায় নেতিয়ে যায়,

সম্পদের সুষম বণ্টন চেয়ে আজন্ম ক্ষোভের বশবর্তী-
ভুখাদের সম্মিলিত মিছিল দাঁড়িয়ে যায় বিকল্প রাজপথে;
এমনতর দৃশ্যে হয়তোবা ব্যাঙ্গ করছে সারিবদ্ধ অট্টালিকাগুলো!

তবুও এই শহর, গ্রাম কিংবা মফস্বলের মোড়ে মোড়ে
আতঙ্কিত ছায়ার চুম্বনে-
প্রতিধ্বনিত হয় সময়ের দায় মেটানোর বাধ্যবাধকতা।

রঙ্গশালা

অদ্ভূত রঙ্গশালা, উম্মাদ নাচনী ওয়ালা এবং কতগুলো গ্রহ নক্ষত্রের বলয়ে ছুটছি।দেয়ালে দেয়ালে কতগুলো পোষ্টার, কিছু শব্দাবলী মস্তিষ্কে তখনো অনবরত কর্ষণ করে চলেছে।

নেশাচক্রে কলম্বাস কিংবা ইবনে বতুতার মতো ছুটে চলি সাগর মহাসাগর ডিঙ্গিয়ে।আগন্তুক কিছু ঘটনাবলী বলা যেতে পারে অড্রে হেপবার্ন কিংবা সোফিয়া লোরেলদের মতো সুন্দরীদের বক্ষভেদ করার গোপন ইচ্ছেটুকুও তখনো অবদমিত হয়নি!

লিথুনিয়া, এস্তোনিয়া,লাটভিয়া…একেএকে ভেঙ্গে পড়ছে শক্তির বলয়,পৃথিবীব্যাপি মহাপুরুষদের মুণ্ডুপাত চলছে !রঙ্গমঞ্চে মঞ্চায়িত হচ্ছে নতুন এক পাণ্ডুলিপি, পরিবর্তনের শ্লোগান মুখরিত। তেমনি স্পন্দিত প্রেমিকার আদ্যপ্রান্ত স্তনজোড়া,নিতম্ব!!

শিহরণ

চোখে বিস্ময়
মুখে মধুরস
আঙুলে যাদুর কাঠি,
যৌবনও যে ভাসে!

তবে এসো,
আজ রাত্রিতে!
লুটে যাক পূর্ণিমা
অমবস্যা হলেও মন্দ কী!

ভাঁজ খুলুক
ছন্দে ও গন্ধে,শিহরণে!

বৃক্ষ ও পাখিদের জন্য

তোমার-আমার পাঁজরের হাঁড়গোড় দিয়ে
একটি কল্পিত স্ট্যাচু নির্মিত হতে পারে
যার বুক জুড়ে থাকবে গোলাপের পাঁপড়ি,
ঠোঁটে চুমুর প্রতিবিম্ব!

স্ট্যাচুর ভাষা বুঝবে হয়তোবা বৃক্ষ ও পাখিরা…
তারাই নাহয় আমাদের গোপনীয় সম্পর্কের
তরজমা সমূহ পাঠোদ্ধার করবে!

আমরা জানি সুন্দরী হেলেনের জন্য ট্রয়
ধংস্বপ্রাপ্ত হলেও রচিত হয়েছে মহাকাব্য।
তদ্রূপ আমাদের জন্যও বৃক্ষ ও পাখিরা নাহয়
খুঁজে নেবে কবিতার শব্দাবলী।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: