Home / সহস্রধারা / কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা

কবি আতাউল হাকিম আরিফের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা

যদি বুকে জড়িয়ে ধরো

ধরে নিলাম তোমার সৌন্দর্য
ইরেনিয়ামের খনির চাইতেও দামী
যেখানে ঢু- মারতে চাইবে তামাম পৃথিবীর পরাক্রমশালী ব্যক্তিবর্গ,
তুমি হবে লাসভেগাসের জুয়ার আসরের সবচাইতে বড়দান
কিংবা পেন্টাগনের যুদ্ধ জয়ের কৌশলে সবচাইতে বড় অস্ত্র!
তোমার রূপযৌবনে ভাসতে থাকবে
আরব সাগরের তেল, এশিয়ার গ্যাস, আফ্রিকার সোনা এবং
আমেরিকা ,রাশিয়ার কারখানায় উৎপাদিত রাসয়নিক, হাইড্রোসিল বোমা….
তুমিও হতে পারো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম উৎসমুখ!
এইতো তোমার শক্তি,
মুহুর্তে রূপের আগুনে ছাইভস্ম করে দিতে পারো আমাকে,
তাতেও আমি রাজি,যদি একবার এসে বুকে জড়িয়ে ধরো।

এক টুকরো আলো

এক টুকরো আলো হঠাৎ-ই আমার বুক পকেটে
অত্যাশ্চর্য আনন্দে হুড়োহুড়ি করলাম কিছুক্ষণ
যৎকিঞ্চিত আলো-
আলোড়নে পিছুমোড়ায় বিদগ্ধ অতীত।
আমার বিস্মিত চোখ জোড়ায় ঢুকে গেছে কলাকান্দা গ্রাম।
সেখানে মৃত্তিকার বুকে জেগে উঠে সকাল।
সময়ের বিবর্তণে গ্রাবু খেলায়-জিতে যায় তোমার নাম।
বুক পকেটে এক টুকরো আলো তুমি,আলোর সমার্থক
একজন যৌবনবতী!

শুধু তোমার জন্য

কার্পাসের মতো দলা দলা মেঘ ভেসে বেড়ায়
মেঘনা থেকে গঙ্গোত্রী উড়ে যায় গাঙচিল,
কখনো কখনো বেহায়া স্মৃতিগুলো নেচে বেড়ায়,
নীলাদ্রি স্বপ্নজালে ডুব দিয়ে এখনো খুঁজি তোমাকে।

বিশ্বাস করো সুচেতনা—-
সুশ্রী ত্বকের ভাজে সুডৌল স্তন জোড়ায়
কিংবা কামুকতায়—-
তোমাকে খুঁজিনি কখনোই,
খুঁজেছি অনিমেষ ভালবাসায়।

সেদিন বসন্তের উৎসবে
হলুদ রঙের শাড়ী
বেলীফুলের খোঁপায় তোমাকে দেখছি-
আমাকে ছুঁয়েছে মুগ্ধতা!

শুধু তোমার জন্য-
কল্পনার ফানুশ উড়িয়েছি নীলাকাশে
সবুজবীথি ছায়াতলে হেঁটেছি অনেকটা সময়।

নারী

অতি যত্নে উর্বর করে
গড়ে নিয়েছি তোমায়!
অনাবাদী থেকে এখন
শিল্পের আবাদভূমি তুমি!

তোমার বুকে আজ
তরতাজা ফুলের গ্রান!
সুরভিত!

তোমার ভ্রুকুটিতেও
গভীর ধ্বণি,
নিশ্বাসে প্লাবিত হতে থাকি।

প্রেমার্ত পুরুষ….
শর্টভার্সন প্রশ্নপত্রের মতোই
সহজ করে নিয়েছে…
তোমার দৈহিক অবয়ব,
মনোজাগতিক বিষয়াবলী!

নারী–
তুমি ছলনাময়ী!
তবুও কামজবোধ
প্রসারিত শিল্প সংগমে!

প্রিয়তার বুকে জেগে উঠে

কালচক্রে ঘুরেফিরে কিছু অন্ধকার নেমে আসে,
অন্ধকূপে ঝাপ দিয়ে পুনরায় উঠে দাঁড়াই।অদূরবর্তী তালগাছে বাবুই পাখির অদ্ভুত কারুশিল্পে দৃষ্টিবদ্ধ হতেই বুকের জমিনে জেগে উঠে প্রিয়তা……

মন ডুবুরি- ষোড়শ শতাব্দীর প্রাসাদোপম একটি কক্ষভেদ করে- যেখানে বাইজী, নৃত্যকলা, সূরা ও কবিতা জড়াজড়ি করে উল্লাসে মাতোয়ারা।স্বপ্নঘোরে কেটে যায় রাত্রির দৃশ্যপট।

প্রত্যুষে কুয়াশাপথ ধরে, কাকডাকা ভোরে হেঁটে যায় ভোগরেখা বরাবর।সূর্যদেবের ভৎর্সনা উপেক্ষা করে জোড় কদমে যান্ত্রিক সময়কে জাগিয়ে তুলি।

ঘড়িপেটা সময়ে বয়ে চলে বিবর্তণের সাতসতেরো,
প্রায়শ; আমার কিম্বা আমাদের হাত,পা বাঁধা থাকে, চোখ দুটো বেঁচে থাকে, তবুও কিছুটা সময় প্রিয়তার বুকে জেগে উঠে সবুজ ভূখণ্ড।

শরীরবৃত্তীয়

শরীরবৃত্তীয় তত্ত্বগত ধারণা ছিলনা খুব একটা,
জীবনটাকে টেনেটেনে নিয়ে চলেছি অনেকটা সময়
ছোটবেলায় কেউ একজন রসময় গুপ্তের বই ধরিয়ে দিলেও

তখনো বুঝিনি শরীর ও যৌনতত্ত্ব!
কৈশোরকালীন বন্ধুদের পাল্লায় মাষ্টারবেশনের সূত্রপাত হলেও
তখনো নিঃস্পৃহ ছিল যৌবন,যৌনতা!
হঠাৎ একদিন তোমাকে দেখায় বিদ্রোহ করলো শরীরমন,
তোমার সুশ্রী মুখমণ্ডল,টানটান শরীর,
ঐ স্তনজোড়ায় ছিল মন্ত্রবাণ!
বুঝে গেলাম শরীরবৃত্তীয় জীবন-যৌবনের ভাষা।

দুই ইঞ্চি জমি লোপাট হবে

বৃষ্টির শীতলতা, অনুভবে তুমি
কামুক সারগমে ইঞ্চি দুই জমি লোপাট হবে।
প্রকৃতিতে আদিম উল্লাসের তীব্রতা ছুঁয়ে যাবে
বেলী,কদমের সৌরভ ছড়াবে বৃষ্টি তরঙ্গ
এলভিস প্রিসলিরা হেরে যাবে…..!

চলো,পেছনে হাঁটতে শুরু করি

প্রিয়ন্তী-
চলো,দেড় যুগ পেছনে হাঁটতে শুরু করি
প্রথম দেখা-
প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে;
কমন রুমের সিঁড়ির পাশে কিংবা লাইব্রেরীতে;
যেখানে অনেকগুলো দৃষ্টি উপেক্ষা করে
আমাদের প্রেমকথন;
চলো,কিছু সময় জীবনানন্দ কিংবা
আবুল হোসেনের কবিতায় বুঁদ হয়ে থাকি।

প্রিয়ন্তি-
চলো,আরো একবার ফিরে যায়
সপ্তাহান্তের সেই বৈকালিক আড্ডায়
উত্তর আধুনিকতা কিংবা
যাদু বাস্তবতার তাত্ত্বিক আড্ডার মাঝেও
চোখে চোখ রেখে কথা বলি!

কথাতো ছিল চন্দ্রনাথের সু-উচ্চ বুকে
ফিরে আসবো বারবার,কিংবা
আলেকদিয়ার সবুজ চরে!
সহস্রধারায় শরীরের সাথে মন ভেজাবো!
প্রাচীনতম অনুভূতির সুক্ষজালে হারিয়ে যাবো।

প্রিয়ন্তি-চলো পেছনে হাঁটতে শুরু করি,
কুড়িয়ে নেবো প্রেমোদগম ভালোবাসা!

যদি একবার আসতি

রুপালি চাঁদের মুখ ভাসে স্বচ্ছ জলের ছায়ায়-
চৈতালি বাতাসের দোলে-
কলাপাতা বুক দেখায় পিঠ দেখায়।
আমিও হলুদরাঙা বৈকালিক
রৌদ্রছায়ায় উদাস মনে ভাবছি তোকে,
ভাবছি তোর মনের এপিঠ-ওপিঠ!

কখন যে সময় গড়িয়ে যায়-
কালশশী জীবনের রঙমহল!
কখনোবা একেবারেই রঙহীন।
খঞ্জনীর বাজনা
খোলের চাঁটি
তমাল ঘেরা ছায়াতল
সূর্য উঠা ভোর
স্ফূর্তির আবেগ-
হঠাৎ কখনো কখনো জেগে উঠা
ঘুমন্ত ট্রাক্টর!

সোনামুখি- তুই কি জেগে আছিস?
নাকি মেঘনার স্রোতে তলিয়ে গেছিস!

কখনো কখনো মনে হয় তোকে ছুঁয়েছি,
তবুও তোর মন ছুঁতে পারিনি!

আমাদের বাঁশঝাড়ে আজ শালিকের
কিছির মিছির,
মুকুলের গন্ধমাদন,
তুই যদি একবার আসতি-
বৈকালিক রৌদ্রছায়ায়!

সবুজপত্র

সবুজপত্রে উর্বশী মৈথুন
ভিজে যাচ্ছে আমার মাঠুয়া,
প্রকৃতিজ শিশ্নকল্লোলে
জেগে উঠে ভোর!

ভোর-
আলো ছড়িয়ে দাও,
প্রিয়তার বুকে জেগে উঠুক স্নিগ্ধতা।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: