Home / সহস্রধারা / গল্প || আঁধারের আলো || শিপন রাজ

গল্প || আঁধারের আলো || শিপন রাজ

আঁধারের আলো

শিপন রাজ

রাকিব এদিকে আসো?
-জ্বি স্যার।
-তুমি কি এই কলেজের ছাত্র?
-হ্যাঁ স্যার?
-আমার তো মনে হয় না?
-কেন স্যার?
-অন্যসব ছাত্রদের দিকে তাকাও?
-স্যার আসলে……
.
হইছে আর বলতে হবে না। তোমার মত
অপরিষ্কার একটা ছেলে আমাদের
কলেজে আর একটাও নাই।
ক্লাসের সবাই হাসাহাসি করে
তোমাকে নিয়ে তবুও লজ্জা করে না?
চুলের কি অবস্থা, শরীর থেকে ঘামের
গন্ধ আসছে।
.
-স্যার আজ সকালে ভাত খেয়ে
এসেছেন?
-হ্যা অব্যশ্যই।
-কলেজ থেকে ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে
হয়তো রিমোট হাতে নিয়ে খেতে
বসবেন আবার এসি ছাড়া তো ঘুমাতেও
পারেন না। ঠিক না স্যার?
.
-এসব বলার মানে কি?
-স্যার জানেন প্রতিদিন আমি না
খেয়ে আসি? বাবা সেই ছোট বেলায়
মারা গেছে, রিকশা চালিয়ে যা
পাই সেটা দিয়েই আমার চলে যায়।
একদিন রিকশা না চালাতে পারলে
হয়তো সেদিন আর পেটে ভাত আসে
না। মা বেঁচে আছে তবে খুব অসুস্থ
প্রতিদিন ঔষধ কিনতে হয়। আপনারা
হয়তো এক বেলা খেতে না পারলে
রেগে যান, আর আমি মাঝে মাঝে না
খেয়েই দিন পারি করে দেই মায়ের
ঔষধ আনতে হবে বলে। স্যার জানেন এত
কষ্টের পরও যখন রাতে মায়ের মুখে
দুটো ভাত তুলে দেই সে সময় আমার মত
খুশি পৃথিবীতে আর কেও হয় না।
জানেন স্যার মা আমায় কোনদিন খেত
বলে ডাকে নি, কোনদিন অপরিষ্কার
বলে নি। যখন রিকশা চালিয়ে ঘামে
ভিজে মায়ের সামনে আসতাম
জানেন স্যার তখন মা তার কাপর দিয়ে
আমার ঘাম মুছে দিয়ে কপালে চুমু একে
দিতো সত্য স্যার মা কোনদিন বলতো
না ঘামের গন্ধ বেরুচ্ছে।
আপনারা হয়তো আপনাদের সন্তানের
জন্য ভালো ভালো কাপর কিনে
রাখছেন ভালো খাবার খাওয়ান।
কিন্তু আমি আমার মায়ের সেই
পবিত্র চুমু খাওয়ার জন্য হাজার
বার ঘাম ঝরাতে রাজি আছি। হাজার
টা কলেজ ত্যাগ দিতে পারি,আমার
মা ই আমার সব । আর হ্যাঁ স্যার আমি আর
কলেজে আসবো না?
কোলাহলপূর্ণ ক্লাসটা একটা সময়
নীরব, নিশ্চুপ,নিস্তব্ধ হয়ে পরে।
.
-স্যার আপনার চোখে পানি?
-অজান্তে চলে আসলো। তা কলেজে
আসবি না মানে?
-স্যার আপনাদের সমস্যা হয়?
-কোন সমস্যা হবে না।আরে আমাদের
কলেজের গর্ব তুই।সত্যে তর মত কষ্ট করে
কেউ লেখাপড়া করতে পারবে না।
আশাকরি তোর মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবি?
আর হ্যাঁ কলেজের সমস্ত বেতনের খরচ
আমি নিলাম।
.
ক্লাসের সবাই নিস্তব্ধ। কোন সারাশব্দ
নেই। রাকিব স্যারকে ধন্যবাদ দিয়ে চলে
আসলো;
.

“উচ্চবৃত্ত ছেলে-মেয়েদের কাছে দারিদ্রতা একটি রূপকথার গল্পের নাম.. আবার কারও কাছে আবেগী কোন রম্যরচনা !!
কিন্তু দারিদ্রতার বাস্তবতা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোই বুঝতে পারে প্রকৃত দারিদ্রতার সংজ্ঞা |
“দারিদ্রতা নিয়ে বেঁচে থাকা ছেলেটা যখন সর্ব মহলে অপমানিত এবং লজ্জিত হয় তখনও দিন শেষে বালিশে মাথা রাখার সাথে সাথে মনে পরে বাবা-মায়ের অশ্রুসিক্ত মায়াবী সেই মুখ এবং ভাই -বোনের গভীর প্রত্যাশা নিয়ে দৃষ্টাটিত চাহনি !!
“কিছু অবহেলা কিছু অপমান এবং কিছু কষ্ট এই নিয়ে বেচে থাকে আঁধারের আলোগুলো !!

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: