Home / সহস্রধারা / গল্প || ছাদে একদিন || ফারজানা আবেদীন

গল্প || ছাদে একদিন || ফারজানা আবেদীন

ছাদে একদিন

ফারজানা আবেদীন

নিস্তব্ধ রাত, চারিদিকে চাঁদের আলোয় ভরে উঠেছে। কারো কোনো সারা শব্দ নেই শুধু ঝিঝি পোকার ডাক ছাড়া। গ্রামের বাড়ি। সাধারণত গ্রামের লোকেরা সন্ধ্যার পর পরই ঘুমিয়ে পরে। রাত ৯টা কি ১০টা হবে আবির একা একা ছাদে বসে মোবাইলে তার বন্ধুদের সাথে কথা বলছে। আবির ছাদের একদম কিনারে বসে আছে।কারন সেখান থেকে অনেক শীতল বাতাস পাওয়া যায়। কারন তাদের বাড়িটা তিনতালা বিশিষ্ট। আর বাড়ির পাশে দিয়ে বয়ে চলেছে একটা সুন্দর নদী। আর ছাদের কিনারা থেকে অনেক স্নিগ্ধ শীতল হাওয়া পাওয়া যায়। শরীর ও মন জুড়িয়ে যায় একদম। আবির রাতের নিস্তব্ধতার সাথে সব কিছু অনুভব করে। আর বন্ধুদের সাথে কথা বলতে থাকে। অনেক্ক্ষণ কথা বলার পর যখন মোবাইল রেখে দিলো তখন দেখলো ওর ঠিক পাশেই একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে। আবির প্রথম চিনতে পাড়লো না।পরে দেখে এটা ওর দূর সম্পর্কের চাচাতো বোন যার কতদিন আগেই বিয়ে হয়েছে। প্রায় মাস খানেক হবে। আবির ওকে দেখে বললো….
-আরে রোহানা তুই এখানে? এত রাতে? কখন এলি?
-আমি ওই যে নদী, নদীর বুকের উপর ভর করে নৌকা চরে এসেছি।
-একা?
-হুম।
-তুই একটি মেয়ে হয়ে এত রাতে,এত দুরের একটা গ্রাম থেকে কিভাবে এলি?তোর স্বামী আসেনি?
-আমার কাছে এখন কোনো কিছুই দূর মনে হয় না।যখন যেখানে খুশি যেতে পারি।শুধু আমি সবার থেকে দুরের হয়ে গেছি।
আবির মনে মনে ভাবে যাই হোক সুখেই আছে।তাইতো যেখানে খুশি যেতে পারে কোনো বাধা নেই।আর সবার থেকে দুরে বলতে হয়তো আমার থেকে দুরে বুজিয়েছে।
একটু পরে রোহেনা বলে আবিরকে…
-আচ্ছা তোমাকে একটা প্রশ্ন করি?
-আচ্ছা কর।
-তুমি আমাকে বিয়ে করলে না কেনো?
-কি বলছিস এসব? তোর বিয়ের এত দিন পরে এসব প্রশ্ন কেনো আবার?
-তুমি বলো।
-কি বলবো বল। তোর সুখের জন্যই আমি তোকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। যাই হোক তুই তো এখন সুখে আছিস। আর আমার কোনো দুঃখ নেই।
আবির এর কথা শুনে রোহানা হো হো করে হেসে উঠে আর বলে…
-সুখ!হাহা! তুমি যদি আমাকে বিয়ে করতে তাহলে আজ আর আমার এ অবস্থা হতো না।
-কি হয়েছে তোর রোহেনা?তুই কি সুখে নেই?
রোহেনা কিছু বলে না শুধু হো হো করে হাসে। ওর হাসিতে পুরো ছাদটা যেনো কাপছে। আবির ভয় পেয়ে যায়। রোহেনার চোখে মুক্তির হাসি আর বুকে অনেক কষ্ট। ফজরের আজান হয়েছে “আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম”। ফজরের নামাজের পর আবির এর বাবা ছাদে আসেন হাটতে। এসে দেখে আবির এখানে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে। ওকে সবাই ধরাধরি করে রুমে নিয়ে আসে। জ্ঞান ফিরতেই ও নিজেকে তার রুমে আবিষ্কার করে। ওকে সবাই কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই। রোহানার নাম মুখে আন্তেই ওর বাবা বলে.. রোহানা তো অনেক দিন আগেই মারা গেছে। ওর স্বামীর বাড়ির থেকে ওকে নাকি যৌতুক এর জন্য অনেক নির্যাতন করতো। আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রোহানা আত্মহত্যা করে। শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে যায় আবির। আর নিজেকে অপরাধী ভাবতে থাকে।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: