Home / সহস্রধারা / গল্প || জীবনের ক্ষয় || অনিক চন্দ

গল্প || জীবনের ক্ষয় || অনিক চন্দ

জীবনের ক্ষয়

অনিক চন্দ

আমাদের এলাকায় প্রাক্তন কিংবা বর্তমানের সব লোকদের শিক্ষার পাল্লাতে বিবেচনা করলে অনায়াসে বলা যায় বিশ্বজিৎ ভাই ছিলো খুব মেধাবী একজন ছাত্র।
জন্মের পর বাবা তার নাম রেখেছিলেন বিশ্বজিৎ অন্যদিকে মা রেখেছিলেন সুভাষ। অবশেষে তাদের সনাতন ধর্মানুসারে জাত বর্ণতার উপর ভিত্তি করে ছেলের নাম হয় বিশ্বজিৎ দেব সুভাষ। তবে বিশ্বজিৎ নামটা শোভা পায় লোকের মুখে মুখে।
বাবা এই ভেবে নাম রেখেছিলেন,ছেলে বড় হয়ে একদিন বিশ্বজয় করবে। মায়ের ভাবনায় ছিলো ছেলে তার নামের মতোই কাজ করবে। গুণের সুভাষ ছড়িয়ে দিবে বিশ্ব ছাড়িয়ে।

সর্বশেষে তাঁদের নাম নিয়ে ভাবনা অনেকটা সত্য হয়ে যায়। চা বিক্রেতা বাবা ও অন্যের বাড়িতে কাজ করা মায়ের স্বপ্ন পূরণ হতে থাকে অনেকটা। মেধাবী বিশ্বজিৎ ভাই অনায়াসে প্রথম স্থান দখল করে সিলেটে অবস্থিত বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে’।
এই খবর শুনে বাবা মায়ের চোখে জল চলে আসে নিমিষেই। এক ছেলেকে এতো কষ্ট করে পড়ালেখা করিয়ে আজ সে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। বাবা মায়ের দু’জোড়া চোখ জুড়ে যেনো হানা দিয়েছে স্বপ্ন মুখর মেঘের ভেলা। তাদের এতো দিনের অফুরন্ত কষ্ট হয়তো হাঁটছে এখন ফুরন্ত এক রাস্তার ধরে। ক’দিন পর সাফল্যের পাহাড় ছুঁয়ে ছেলে তাদের লালনপালন করবে তাদের ছায়া হয়ে। বিশ্বজিৎ ভাইয়ের দু’চোখ ভরা স্বপ্ন গুলোও জ্বলজ্বল করছিলো কয়েকগুণ হারে। এখন যে সে হতে পারবে দেশের একজন নামকরা এক ভালো ইঞ্জিনিয়ার।

অবশেষে বিশ্বজিৎ ভাই শত স্বপ্ন চোখে ভর্তি হয় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাস্তবতার কঠিন নিয়নে মা বাবার কোল ছেড়ে তাকে আসতে হয় সবুজ শ্যামল শীতল জেলা সিলেটের মাটিতে। সেখানে গিয়ে কয়েকটা টিউশন জোগাড় করে নেয় বিশ্বজিৎ ভাই। টিউশনের সাথে সাথে অনেক বন্ধু-বান্ধবও জুটে তার কপালে। এর মধ্যে নাঈম ভাই ছিলো তাঁর বিশ্বস্ত এক বন্ধু। শুরুতে ভালোই যাচ্ছিলো তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। চোখে মুখ জুড়ে আঁকা ছিলো অজস্র স্বপ্নের রঙিন আলপনা।

কয়েকটা দিন যেতে না যেতেই বিশ্বজিৎ ভাইয়ের সব টিউশন চলে যেতে থাকে তাঁর থেকে অনেক দূরে। যার কারণ ছিলো বিশ্বজিৎ ভাই প্রথম প্রথম তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের মনোযোগ সহকারে পড়াতো,এখন আর পড়ায় না ঠিক আগের মতো। এমন কি ছাত্র-ছাত্রীদের বাসায় পৌঁছতেও হয়ে যেতো অনেক দেরি। একদিন গেলে বাকি দিন গুলো ভিন্ন ভিন্ন অজুহাতে মিস দিতে শুরু করে। টিউশন মিস করার এক ও অদ্বিতীয়া কারণ ছিলো সুষ্মিতা নামের একজন। সুষ্মিতা নামের ঐ মেয়ে ছিলো ক্যাম্পাসের সবচে সুন্দর ও রূপময়ী নারীর মধ্যে একজন । কোনো ছেলে সুষ্মিতার রূপের প্রেমে নিজেকে হারায়নি তা খুঁজে পাওয়া অনন্য এক কষ্টের কাজ। বিশ্বজিৎ ভাইও বাদ পরেনি তা থেকে। সুষ্মিতা ও বিশ্বজিৎ ভাই এক ডিপার্টমেন্টে থাকায় প্রায় দেখা হতো। ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠে দু’জনের মধ্যে। ধীরে ধীরে বন্ধুত্বতা আরোও গভীরে গিয়ে রূপান্তরিত হয় প্রেম নামক কালোময় এক সম্পর্কে। সুষ্মিতা নামের মেয়েটি রূপে দিক দিয়ে অনেক সুন্দর ছিলো বটে,তবে মনের দিক দিয়ে খুবই নিকৃষ্ট। তাঁর কাছে প্রেম মানে ছিলো ছেলে খেলা। এই ক্ষুদ্র জীবনে কয়েকটি প্রেম করে শেষ। সুষ্মিতার কাছে প্রেম এই ছিলো যে একজন থেকে আরেকজনকে ভালো লাগলে তার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। আর বিশ্বজিৎ ভাইয়ের ছিলো এই প্রথম প্রেম। তাই বলতেই হয় বিশ্বজিৎ ভাই এই বিষয়ে অনেক অপক্ক। ছলনাময়ী সুষ্মিতাকে উনি বুঝতে পারেন নি,বরং না বুঝেই প্রেম করে যাচ্ছিলো। আর খুঁজছিলো সংসার বাঁধার শেষ ঠিকানা। সুষ্মিতার প্রেমে বিশ্বজিৎ ভাই যতোই আকৃষ্ট হচ্ছিলো তার চেয়ে তার জীবন হচ্ছিলো আগের চেয়ে কয়েকগুণ অগোছালো। প্রেমিকাকে সময় দেওয়া ব্যাতিত তার বাকি কাজ গুলার প্রতি বাড়তে থাকে খামখেয়ালীপনা। এছাড়াও বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোও ছিলো তাঁর সাধ্যের বাহিরে। যার কারণে সব বন্ধুদের থেকে বিশ্বজিৎ ভাইয়ের সম্পর্ক হয়ে যায় অনেকটা আলাদা,বাড়তে থাকে দূরত্ব।

অন্যদিকে সব টিউশনি চলে যাওয়ায়, এখন সে বাসা ভাড়ার টাকা কিংবা খাবার দাবারের টাকা, তাছাড়াও সুষ্মিতার পিছনে খরচ করার জন্য সব টাকা আনতে শুরু করে বাবার কাছ থেকে অজুহাতে। চা বিক্রেতা বাবা টাকা দিতে হিমশিম খেলেও ছেলেকে একদম বুঝতে দিতেন না নিজের কষ্টটুকু। বাবার একটাই আশা একদিন ছেলে মানুষের মতো মানুষ হয়ে মুছে দিবে তাদের জীবনের সব কষ্টের অধ্যায়।
এতো টাকার হিমশিম খেয়ে বাবা একদিন বিশ্বজিৎ ভাই কে জিজ্ঞেস করে নিলেন,
-“বাবা তোমার এতো টাকা লাগে কেনো? তোমার বিশ্ববিদ্যালয় তো বাবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও বাবা এতো টাকা লাগে না।”
বিশ্বজিৎ বাবাকে উত্তর দেয়,
-“কি করে বুঝবা তুমি এইসব? বাবা! তুমি কি আর এতো দূর পড়ালেখা করছো? চা বিক্রি করে কি বুঝবা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্ম!”
নিজ সন্তানের মুখে এমন কথা শুনে মাথায় ধসে পড়েছে বিশাল এক পাহাড়। কষ্ট বুকে বললেন বাবা,
-“হ্যাঁ বাবা,ঠিক বলছো। পড়ালেখা চালিয়ে যাও বাবা ভালো করে।”
বিশ্বজিৎ ভাই “ওকে ওকে” বলে কল সংযোগটা কেটে দিলো।

সূর্য উঠা নামা দেখতে দেখতে বিশ্বজিৎ ভাই ও সুষ্মিতার রিলেশনশিপ এক বছরের সামনে এসে দাঁড়ায়। এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে সুষ্মিতা বিশ্বজিৎ ভাইকে জিজ্ঞেস করছিলো,
-“আচ্ছা তুমি আমাকে কি গিফট দিবা এক বছর পূরণে? “
বিশ্বজিৎ ভাই বললো,
-” আচ্ছা তুমি কি চাও বলো! যা চাও তা পাবে।”
সুষ্মিতা বলে,
-“আচ্ছা তাইলে আমাকে একটা আই-ফোন গিফট দিবা প্লিজ। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে আই-ফোন ইউজ করবো।”
বিশ্বজিৎ অবাক হয়ে বলে,
-“আই-ফোন….! এতো টাকা পাবো কোথায়? তুমি তো জানো আমার বর্তমান অবস্থা!”
-“মানে বিশ্বজিৎ! তুমি এই সামান্য কিছু দিতে পারবা না! তুমি আমার কিসের বয়ফ্রেন্ড? তোমার কোনো যোগ্যতা নেই আমার বয়ফ্রেন্ড হওয়ার।
বিশ্বজিৎ ভাই উত্তরে বললো,
-“কুল ডাউন সুষ্মি! এইটা সামান্য কিছু না। আই-ফোন কিনতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এতো টাকা পাবো কোথায় আমি?”
সুষ্মিতা বিপরীতে বললো,
-“না পারলে বলো। এখনই সব শেষ করে দিবো। তোমার আর কষ্ট করে যোগাযোগ করতে হবে না আমার সাথে।”

বিশ্বজিৎ ভাই ভালোবাসা রক্ষার ভয়ে বাবার কাছে কল দেয়। দিয়ে বলে,
-“বাবা, চার বর্ষের সব পরীক্ষার অনেক টাকা দিতে হবে। সর্বমোট এক লাখ বিশ হাজার টাকা।”
বাবা অবাক স্বরে বলেন,
-“বিশ্বজিৎ,আমি এতো টাকা কোথায় পাবো রে বাপ? আমার কাছে তো নাই রে বাবা এতো টাকা।”
আবারও বললেন,
-“আচ্ছা,স্যারদের বলে কমানো যায় না বাবা! আর আমি দেখি পারি কি না জোগাড় করতে।”
বাবা নিরুপায়ে বিক্রি করেন বাড়ির একাংশ। আর বিশ্বজিৎ ভাইকে টাকা দিয়ে বলেন,
-“বাবা,তুমি একদিন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দূর করো আমাদের সব কষ্ট।”
বিশ্বজিৎ ভাই খুশি হয়ে বলে,
-“আচ্ছা বাবা। তুমি চিন্তা করো না বাবা,আমি মুছে দিবো তোমার সব কষ্ট।”
তবে একটাবার জানতে চাইলো না,বাবা এতো টাকা মেনেজ করলেন কোথা থেকে!

পরিশেষে বিশ্বজিৎ ভাই প্রেমিকাকে আই-ফোন গিফট করে সক্ষম হলেন নিজের ভালোবাসা রক্ষায়। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বজিৎ ভাই সুষ্মিতাকে নিয়ে হয়ে যান কয়েকগুণ উন্মাদ। এমনকি বাবার কল রিসিভ করার মতো সময় নেই তাঁর কাছে। পরিশেষে বাবার কলে বিরক্ত হয়ে সে বদলে নেয় নিনের সিম কার্ডটাও। বন্ধ করে দেয় বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ। আগের চেয়ে দ্বিগুণ হারে সুষ্মিতার প্রেমে হয়ে যায় সে আত্মহারা।
তা দেখে বিশ্বজিৎ ভাইয়ের কাছের বন্ধু নাঈম ভাইয়ের মনে মাঝে ভীষণ খারাপ লাগে। তাকেও আগের মতো পাত্তা দেয় না বিশ্বজিৎ ভাই। নাঈম ভাই কিন্তু ঠিক জানতো সুষ্মিতা মেয়েটি অনেক বাজে স্বভাবের। নাঈম অনেকবার বিশ্বজিৎ ভাইকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিশ্বজিৎ ভাই তা একদম জায়গা দেয়নি তার দু’কানে। উল্টো তাকেই ভুল বুঝেছে। নিঃস্বার্থ বন্ধু নাঈম ভাই চায় তার বন্ধুকে ফিরিয়ে আনঅতে আগের জীবনে,চায় রক্ষা করতে বন্ধুকে খারাপ মেয়ের কবল থেকে। এক বন্ধুকে ফিরিয়ে আনার জন্য আরেক বন্ধু শাওন ভাইয়ের সাহায্য নেয় নাঈম ভাই। শাওন ভাইয়ের ছিলো নামীদামী এক মোটরবাইক। দেখতেও ছিলো বিশ্বজিৎ ভাই থেকে অনেকটা সুদর্শন। নাঈম ভাই শাওন ভাইকে দিয়ে সুষ্মিতাকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ায়। সুষ্মিতা শাওন ভাইকে বলে দুই দিন সময় নেয়। আর এই দুই দিনে বিশ্বজিৎ এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক বিচ্ছেদ করে দেয়। পরিশেষে শাওন ভাইয়ের সাথে গড়ে তুলে ভালোবাসার সম্পর্ক। অন্যদিকে নাঈম ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিলো শাওন ভাইয়ের সাথে কয়েকদিন প্রেম করার পর এই মেয়ে শাওন ভাই ধোঁকা দিবে। মেয়েটি উচিৎ শিক্ষা পাবে,এছাড়া বিশ্বজিৎ ভাইকেও রক্ষা করা যাবে খারাপের কবল থেকে। পরিকল্পনাটি এক ঢিলে দু’পাখি শিকারের মতো।

অন্যদিকে বিশ্বজিৎ ভাই সুষ্মিতাকে হারিয়ে হয়ে আছে দেবদাস। বোধহয় এখন সুষ্মিতার শূন্যতায় মদ,গাঁজা,সিগারেট এর সাথে জড়িয়ে গেছে প্রেমের সম্পর্কে। একদিন সে নেশা করে আবুল তাবুল বকছিলো। এতে নাঈম বাঁধা দিলে বিশ্বজিৎ ভাই উত্তর দেয়,
-“আমার যা ইচ্ছা তা ভাষা ইউজ করবো। তুই বারণ করার কে! ১৯৫২ সালে অর্জিত আমার বাংলা ভাষা। তুই বাঁধা দেওয়া কে রে!”
নাঈম ভাই তাঁর পাগলামো দেখে নিজেই হাসতে শুরু করে পাগলের ন্যায়।
প্রেমে ধোঁকা খাওয়ার দ্বিতীয় দিন বিশ্বজিৎ ভাই রিক্সা করে সিগারেট টানতে টানতে যাচ্ছিলো নাঈম ভাইয়ের সাথে। তাতেও নাঈম ভাই বাঁধা দিলে সে উত্তর দেয়,
-“বন্ধু আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক,আমার কাজে তুই বাঁধা দিলে সেটা দণ্ডনীয় পাপ ব্যাতিত কিচ্ছু হবে না। যা চুপ যা।?”
নাঈম হেসে হেসে বলে,”মাতাল একটা। তুই চুপ যা।”
সে দিন রাতে বিশ্বজিৎ ভাইয়ের মনে নেমে আসে অনেক শান্ততা। শান্ত হওয়ায় নাঈম বিশ্বজিৎ ভাইকে বুঝিয়ে বলেন,
-“আগের জীবনে ফিরে আয় বিশ্বজিৎ। জীবনটা সাজিয়ে নে নিজের ইচ্ছে মতো সুন্দর করে। আর নিজের বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ ঠিক কর। উনারা তোর জন্য চিন্তায় পাগল হয়ে আছেন হয়তো। যা কল দে আংকেলের মোবাইলে।”
বিশ্বজিৎ ভাই এই কথা শুনে তাড়াহুড়ো করে বাবার নাম্বারে কল দিতে শুরু করে। যতোবারই কল দেয় বিপরীত প্রান্ত থেকে উত্তর আসে মোবাইলটা বন্ধ।
মোবাইল বন্ধ থাকায় নাঈম ভাই বলে,
-“আচ্ছা ঠিক আছে,হয়তো কোনো কারণে উনার মোবাইলটা বন্ধ। কাল তো ভার্সিটি বন্ধ তুই গ্রামের বাড়ি যা। বাবা মায়ের সাথে দেখা করে আয়। আর আজকের রাতের ট্রেনেই রওয়ানা দে। এখানে কিছু টাকা আছে,এইগুলা নে। বাবা মায়ের জন্য ভালো কিছু কিনে নিস। তারা খুশি হবে।”
কথা গুলো শুনে বিশ্বজিৎ ভাই নাঈম ভাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে আর বলে,
-“তুই আমার বন্ধু না রে! তুই আমার ভাই হস ভাই।

অতঃপর বিশ্বজিৎ ভাই সবটা ফেলে রওয়ানা দেয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে ভাবে গিয়ে বাবা মায়ের পা ধরে মাফ চাইবে। অবশেষে নিজ গ্রামে পৌঁছতে পোঁছতে ফোটে যায় সকালের রবি। সেখানে গেলে দেখে সবাই তাঁর দিকে চেয়ে আছে। আর তাকে দেখে নিজেদের মধ্যে ফিসফিসিয়ে কিছু বলতে থাকে। বিশ্বজিৎ ভাই অপরাধীর ন্যায় মাথা নিচু করে হাঁটতে হাঁটতে আগাতে থাকে বাড়ির পথে।বাড়িতে গিয়ে কান্নার ধ্বনি শুনে প্রচণ্ড অবাক হয়। বাড়িতে প্রবেশ করতেই তাঁর কাকা তাকে ধাক্কা দিয়ে বলেন,
-“এক সপ্তাহ আগে তোর বাবা তোর চিন্তায় স্ট্রোক করে মারা যান। তোর দুঃখে আর তোর বাবার দুঃখে আজ ভোরে তোর মা মারা যান। তুই ছেলে নামে কলঙ্ক। তোর কোনো অধিকার নেই তোর মায়ের মুখ দেখার। বেরিয়ে যা,এখনই বেরিয়ে যা।”
এই বলে মায়ের লাশের কাছেও যেতে দেওয়া হয়নি বিশ্বজিৎ ভাইকে। বরং গ্রামের সবাই মিলে বিশ্বজিৎ ভাইয়ের উপর ছুঁড়তে থাকে নানান ধরণের অপমান। সেই অপমান কিংবা মা বাবা হারানোর শোক বিশ্বজিৎ ভাই সইতে পারেনি একদম। পরের দিন ভোরে বটতলা থেকে উদ্ধার করা হয় বিশ্বজিৎ ভাইয়ের গাছে ঝুলন্ত লাশটি। মৃত্যুর পূর্বে মাটিতে রেখে যায় এক শিক্ষণীয় চিরকুট। চিরকুটাতে লেখা ছিলো,

‘প্রেম করো হায় মনটা দেখে
রূপ দেখে তো নয়,
রূপ দেখে যে প্রেম করিলে
হয় জীবনের ক্ষয়।’

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: